“নারীর মানসিক স্বাস্থ্য ও একটি সুস্থ প্রজন্ম গঠনে তার ভূমিকা”
মানসিকভাবে একটি সুস্থ ও সবল প্রজন্ম গড়ে তুলতে নারীদের ভূমিকা বর্ণনাতীত! হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির আন্ডারগ্রেড স্টুডেন্টদের উপর দীর্ঘদিন ধরে চালানো একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে ৯১% মানুষ যাদের তাদের মায়েদের সাথে নেতিবাচক সম্পর্ক ছিলো, ওল্ড এইজে দেখা গিয়েছে যে শারীরিকভাবে তাদের বিভিন্নরকম অসুস্থতায় ভোগার হার বেশি ছিলো। অপরদিকে যাদের মায়েদের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক ছিলো তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৪৫%। অর্থাৎ মায়ের সাথে বাচ্চার ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট বা আবেগীয় বন্ধনের সাথে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতারও একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে!
এখন এইযে মায়েদের তাদের বাচ্চাদের সাথে সম্পর্কের ধরন বা আবেগীয় বন্ধন, তার অনেকটাই নির্ভর করে মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। মায়েরা তাদের মানসিক বিষয়গুলো নিয়ে কতটা সচেতন, কতটা যত্নশীল এবং কতটা সুরক্ষায় আছেন তার উপর। এবং একাধিক গবেষণায় এও দেখা গিয়েছে যে গর্ভধারণকালে মায়েরা বিষণ্ণতা, উদ্বিগ্নতা সহ আরো কোনো মানসিক অসুবিধায় ভুগলে সেটা গর্ভের বাচ্চার মধ্যেও ট্রান্সমিট হয়ে যায়! বাচ্চা বড় হয়ে অনেক ক্ষেত্রে বুঝতেও পারে না যে কেন তার বিষণ্ণ লাগে সবসময়, কেন উদ্বিগ্নতা সহজেই গ্রাস করে ফেলে তাকে!শুধু যে সন্তানদের উপর পড়ে তা নয়, নারীদের যেহেতু সংসারেরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাই পরিবারের মানুষদের সাথেও একটা সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া ও যত্ন নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষদেরও উচিত নারীদের মনের যত্ন নেয়ার বিষয়ে সচেতন হওয়া ও তাদের প্রতি আরো যত্নশীল হওয়া। কথায় বলে যে “নারীর মনের ভাষা খুবই দুর্ভোধ্য”। তবে সেটা যত দুর্ভোধ্যই হোক, পুরুষরা যদি একটা সহমর্মি হৃদয় দিয়ে দেখার চেষ্টা করে, তাহলে অবশ্যই নারীদের মন কিছুটা হলেও বুঝতে পারবে এবং তাদের জন্য একটা নিরাপদ ও সুন্দর মানসিক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হবে। তাতে করে তারা তাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, সুস্থ সুন্দর মনের জ্যোতি দিয়ে আলোকিত করে ফেলবে গোটা একটা প্রজন্মকেই। তাই আসুন নারীর মনকে গুরুত্ব দেই, ভালো রাখি, যত্নে রাখি।




